কুকুর মারলে জরিমানা; গরু মারলে কি?

কেন্দ্র সরকার আইন আনছে কুকুর মারলে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা। স্বাগত জানাই। কিন্তু গরু মারলে? কি বললেন? গরু অনেকের খাদ্য, তাই গরু মারলে জরিমানা করা যাবে না? কুকুর‌ও তো অনেকের খাদ্য। নাগা, কুকি, লুসাই, মার, ব্রু এই ধরণের অনেক কমিউনিটির লোকেই কুকুর খায়। ভোটের নিরিখে কুকুর খাদকদের সংখ্যা নগণ্য বলে এদের খাদ্য নির্বাচনের অধিকার থাকবে না?

আমি কুকুর মারার পক্ষপাতী মোটেই ন‌ই। কিন্তু পশুহত্যাকে কেন্দ্র করে একটা ভন্ডামি চলছে, পক্ষপাতিত্ব চলছে। এটা বন্ধ হ‌ওয়া দরকার। কুকুর মারার প্রতিবাদ করলে আমি পশুপ্রেমী, ডগ লাভার আর গোহত্যার প্রতিবাদ করলে আমি সাম্প্রদায়িক- এই ভন্ডামি চলবে না।

কয়েকটা রাজ্যে গোহত্যা নিরোধক আইন এসেছে। কেন্দ্র সরকার এক‌ই ধাঁচে আইন করে গোহত্যা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করুক।

Cruelty to animals প্রশ্নে আর একটা বিষয় না বললে চলবে না। এই আইনে খাদ্য হিসেবে নির্বাচিত পশুদের হত্যা করার সময়ে তাদের গলা অর্ধেক কেটে ফেলে রাখা অর্থাৎ জবাই (হালাল) করার প্রথার উপরে নিষেধাজ্ঞা আনা উচিত। কারণ এই পদ্ধতি সর্বাধিক নিষ্ঠুর পদ্ধতি। ধর্মের দোহাই দিয়ে এই নিষ্ঠুরতাকে প্রশ্রয় দেওয়াও কি ভন্ডামি নয়?

এই পরিবর্তনের ডাক একটা ভাঁওতা; চাই বাঙ্গালী হিন্দুর দল

একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাদ্রাসার জন্য ৫০ কোটি বরাদ্দ করলেন, অন্যদিকে শমীক ভট্টাচার্য্য মাদ্রাসা শিক্ষকদের দাবিদাওয়ার সমর্থনে গলা ফাটাচ্ছেন।

যারা ক্ষমতা দখলের জন্য যেকোনো পর্যায়ে সমঝোতা করতে পারে, তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যও যেকোনো পর্যায়ে সমঝোতা করতে দ্বিতীয়বার ভাববে না। বঙ্গ রাজনীতিতে এদের বিকল্প চাই। হাতে সীমিত সময়, তবুও এছাড়া সমাধানের অন্য কোনও পথ নেই। আমি ক্ষোভ প্রকাশ করে বসে থাকায় বিশ্বাস করি না। মা কালীর আশীর্বাদ থাকলে আমরাই এই পথের সূচনা করতে চলেছি।

আমাদের ভবিষ্যত, সংগঠনের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবিত ন‌ই। বাঙ্গালী হিন্দু জাতির ভবিষ্যত‌ই আমাদের সকলের ভবিষ্যত। আগামী নির্বাচনের তুলনায় আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যত নিয়েই ভাবতে চাই। ২০২৬ এ যে দল‌ই ক্ষমতায় আসুক না কেন, রাজ্যের তৎকালীন বিধানসভায় বাঙ্গালী হিন্দুদের স্বার্থে একটা শক্তিশালী প্রেসার গ্রুপ যদি না দাঁড় করানো যায়, তবে এই লড়াই অনেক অনেক কঠিন এবং অসম হয়ে যাবে। রাজনীতিতে বিশ্বাস বা ভরসা নয়, একমাত্র ‘চাপ’ ফলপ্রসূ হয়। তাই কোনও দল অথবা নেতার উপরে নয়, নিজেদের ক্ষমতার উপরে ভরসা রেখেই এগোতে চাই। তাই এই নির্বাচনেই বীজ রোপন হবে।

We are soldiers by choice, we know that a soldier lives by chance but we know that soldiers always write the history.

দেশ এবং জাতিকে বাঁচতে হলে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারী করতে হবে; প্রয়োজনে সংবিধানের ৩০ ধারা বিলোপ করে সবার জন্য সমান শিক্ষা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে

মাদ্রাসা সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর- ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের এই উক্তি নিয়ে তুমুল শোরগোল হয়। ইসলামিক মৌলবাদী এবং তাদের দালাল সেকুলার ব্রিগেডের চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত এই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হয় বুদ্ধদেববাবুকে। কিন্তু অন্ধ হলেই কি প্রলয় বন্ধ হয়? উল্কার বেগে বাড়তে থাকা মাদ্রাসার সংখ্যা আজ রীতিমত আমাদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণের পরে এনআইএ রাজ্যের কয়েকটি মাদ্রাসায় তল্লাসী চালায় এবং তা থেকে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে চলে আসে। পরবর্তীকালে জেএমবি এমনকি আল-কায়দার সাথে যুক্ত বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসবাদী রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে ধরা পড়ে, যাদের সাথে মাদ্রাসার সুস্পষ্ট সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে। এই কারণেই মাদ্রাসা শব্দটা আজ যথেষ্ট পরিচিত এবং বিতর্কিত। কিন্তু মাদ্রাসা সম্পর্কে আমরা কতটা জানি?

আরও পড়ুন: ওয়াকফ: দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার (১)

অনেকেই মনে করেন মাদ্রাসা মানে পাঠশালা বা স্কুল। কিন্তু সাধারণ পাঠশালা বা স্কুলের সাথে মাদ্রাসার পার্থক্য হল এই যে, মাদ্রাসা হল ইসলামের তত্ত্ব শিক্ষার পাঠশালা। এই শব্দটি আরবি শব্দ দারসুন থেকে উদ্ভূত যার অর্থ ‘পাঠ’। মাদ্রাসা মূলত মুসলমানদের অধ্যয়ন-গবেষণা প্রতিষ্ঠান। সাধারণ অর্থে মাদ্রাসা হচ্ছে আরবি ভাষা ও ইসলামি বিষয়ে অধ্যয়নের প্রতিষ্ঠান। মাদ্রাসার প্রাথমিক স্তর মক্তব, নূরানি বা ফোরকানিয়া মাদ্রাসা নামে অভিহিত। ফোরকানিয়া শব্দের মূল ফুরকান যার অর্থ বিশিষ্ট। মিথ্যা থেকে সত্যকে সুস্পষ্টভাবে পৃথক করার দাবি রাখে বলে কোরানের আরেক নাম আল-ফুরকান। প্রাথমিক স্তরের যেসব মাদ্রাসায় কোরান পাঠ ও আবৃত্তি শেখানো হয় সেগুলিকে বলা হয় দর্‌সে কুরআন। সাধারণত স্থানীয় কোন মসজিদেই আশেপাশের পরিবারের ছোটদের প্রাথমিক পর্যায়ের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয়। মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনরাই সাধারণত এর শিক্ষক বা উস্তাদ হন। মাদ্রাসার শিক্ষাপদ্ধতির মৌলিক পাঠ্যসূচীকে বলা হয় দারস-ই-নিজ়ামি। মাদ্রাসায় পঠন পাঠন সাধারণত আরবি ভাষায় দেওয়া হয়; স্থানীয় ভাষা সেস্থানে সর্বদাই উপেক্ষিত। কোরান, হাদিশ, সিরাত (হযরত মহম্মদের জীবনী) ছাড়া শিশুরা যা শেখে তা হল ইসলামিক সাম্রাজ্য বিস্তারের ইতিহাস। বিশেষ করে ইসলাম যেসব দেশ দখল করেছে, সেসবের সামরিক ইতিহাস। এইভাবে ধীরে ধীরে তাদের মগজে জিহাদের বীজ বপন করা হয়। সকলের জানা উচিত যে ইসলামে কাফেরদের বিরুদ্ধে দীর্ঘকালীন যুদ্ধের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। যতদিন না পর্যন্ত পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষ ইসলাম কবুল করছে এবং সমগ্র পৃথিবীর উপরে ইসলামের শাসন প্রতিষ্ঠত না হচ্ছে — জিহাদ জারি থাকবে।

আরও পড়ুন: ওয়াকফ: দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার (২)

জনৈক ইসলামিক পণ্ডিত শ্রী দেবেন্দ্র মিত্তল তাঁর হিন্দি পুস্তক “হিন্দুস্তান মেঁ মাদ্রাসা” গ্রন্থে (৬৭ থেকে ৭৪ তম পাতা) লিখেছেন যে, মাদ্রাসায় শুধু এটাই শেখানো হয় — তোমরা শুধু আল্লাহকে মান্য করবে; কিন্তু মাতৃভূমি হিসেবে কোনও দেশকে নয়। একইসাথে মাদ্রাসায় অমুসলমানদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করা হয়, ভয় দেখানো হয় যে; ওদের সাথে বন্ধুত্ব করলে ওদের মতই তুমিও নরকে যাবে। সবচেয়ে বড় কথা মাদ্রাসাগুলিতে দুটো জিনিস শিক্ষার্থীদের মগজে গেঁথে দেওয়া হয়— অমুসলমানদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে এবং সম্ভব হলে সর্বত্র গণতন্ত্রের জায়গায় শরিয়া-র শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

১৯৪৭ সালে সদ্য বিভাজিত হওয়া ভারতে মোট মাদ্রাসার সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৮; বর্তমানে এই সংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষের কাছাকাছি। পশ্চিমবঙ্গে সরকার অনুমোদিত এবং খারিজি (অনুমোদন বিহীন) মিলিয়ে মাদ্রাসার সংখ্যা ৬ হাজারের আশপাশে, যার মধ্যে খারিজি মাদ্রাসার সংখ্যাই পাঁচ হাজারের উপরে। এই বিপুল সংখ্যক খারিজি মাদ্রাসার উপরে সরকারের কোনও রকমের নিয়ন্ত্রণ নেই। এই লাগামছাড়া মাদ্রাসাগুলোতে মুসলমান শিশু এবং কিশোরদের মনে যেভাবে অসহিষ্ণু আব্রাহামিক মতবাদের বীজ বপন করা হচ্ছে তাতে ভরতের মাটিতে Clash of Civilisation বা সভ্যতার সংঘাত অদূর ভবিষ্যতে একটা চরম রক্তক্ষয়ী রূপ নেবে।

এখন অনেকেই হয়তো জাস্টিস সাচারের রিপোর্টের উল্লেখ করে বলবেন যে এই রিপোর্টের ৭৬ নং পৃষ্ঠায় তিনি দাবি করেছেন — ‘মাত্র ৪% মুসলিম শিশু নিয়মিত মাদ্রাসা যায়’। তার এই দাবী সর্বৈব মিথ্যা। ভারতের জনগণকে বিভ্রান্ত করতে জাস্টিস সাচার ইচ্ছাকৃত ভাবে মাত্র ৭ থেকে ৯ বছরের শিশুদের এই তালিকায় রেখেছেন, ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সী ছাত্রছাত্রীদের এই তালিকায় রাখেন নি। রাখলে সংখ্যা ৪% হত না। সবচেয়ে মজার বিষয় হল ঐ রিপোর্টের ৭৭ নং পৃষ্ঠায় তিনি স্বীকার করেছেন, এখানে মাদ্রাসা মানে সেইসব মাদ্রাসা, যা মসজিদের সাথে যুক্ত নয়! অথচ সকলেই জানেন যে অধিকাংশ মাদ্রাসাই মসজিদের সাথে যুক্ত থাকে এবং সেখান থেকে অসহিষ্ণু আব্রাহামিক মতবাদের শিক্ষাদান করা হয়। বাস্তব এটাই যে কমপক্ষে ৫০% ভারতীয় মসজিদের সাথে মাদ্রাসা যুক্ত আছে এবং সেখানে কমপক্ষে ৮-১০ লক্ষ ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে।

মাদ্রাসার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়ার পিছনে একটি আন্তর্জাতিক চক্র কাজ করছে। সৌদি আরব একাই প্রতি বছর প্রায় আড়াই কোটি ডলার ভারত, নেপাল আর বাংলাদেশে মাদ্রাসার পিছনে ব্যয় করে। উদ্দেশ্য একটাই- দারুল ইসলামের প্রতিষ্ঠা করার জন্য অধিকাধিক সংখ্যায় জেহাদী তৈরি করা। আর এই জেহাদী তৈরির কারখানা হল মাদ্রাসা। কোনও সরকারই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক এই ইস্যুটিকে গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করছে না। উন্নয়ন অথবা বিকাশ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। বরং অনেকেই ভোট রাজনীতির স্বার্থে এই ভয়ংকর বিপদকে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে। যেখানে পশ্চিমবঙ্গে আছে সর্বমোট ৬ হাজার মাদ্রাসা, সেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন ১০ হাজার মাদ্রাসাকে নাকি উনি অনুমোদন দেবেন! ২০১৩ সালের শুরুতে ২০ টি ইসলামিক দেশ থেকে প্রায় ২৫,০০০ ওয়াহাবিবাদী ইসলামিক পণ্ডিত ভারতের দেওবন্দে এসেছিলেন। তারা ৮ ভারতীয় রাজ্যে এবং ৭,০০০ মাদ্রাসায় ঘুরেছিলেন। তারা ১২ লাখ মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের সাথে আলাপ-আলোচনা করেওছিলেন। এদের মধ্যে কয়েকজন আবার বেআইনিভাবে কাশ্মীর উপত্যকায় ভ্রমণও করেছিলেন। এখানে নিশ্চয়ই বলার দরকার নেই যে, এই ২৫,০০০ ওয়াহাবিবাদী পণ্ডিতরা ছাত্রছাত্রীদের কী শিক্ষা দিতে এসেছিলেন! তৎকালীন ইউপিও সরকারের প্রশ্রয় ছাড়া কি এটা সম্ভবপর ছিল? বর্তমান কেন্দ্র সরকারও এবিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা নেই। তবে এবিষয়ে অসমের শিক্ষামন্ত্রী শ্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার ভূমিকা প্রশংসার দাবী রাখে। উনি একমাত্র রাজনৈতিক নেতা যিনি রাজ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার কথা বলার সাহস দেখিয়েছেন।

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বিধাসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পি এফ আইয়ের গোপন কার্যকলাপ জাতীয় নিরাপত্তায় নিযুক্ত সংস্থাগুলোকে যথেষ্ট চিন্তায় রেখেছে। সি এ এ বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকে ওই সংস্থার সদস্যদের কার্যকলাপের রিপোর্ট এসেছিলো গোয়েন্দা কর্তাদের হাতে। সূত্রের খবর রাজ্যে বাছাই করা জেলাগুলোতে অর্থাৎ মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং হাওড়া জেলায় ওই সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে স্থানীয় দেশবিরোধী কিছু বিভেদকামীরা হাত মিলিয়েছে। এই ধরনের সংগঠনের রিক্রুটারররা সাধারণত মাদ্রাসা এবং মসজিদ গুলোকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সদস্যদের খুঁজে বেড়ায় এবং সদস্য নিয়োগ করে।

দেশ এবং জাতিকে বাঁচতে হলে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারী করতে হবে। প্রয়োজনে সংবিধানের ৩০ ধারা বিলোপ করে সবার জন্য সমান শিক্ষা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে। সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান করছি- তোষণ ছাড়ুন, জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিন যে ক্ষমতায় এলে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে  মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ করবেন।

ওয়ার ক্রাইয়ের প্রত্যুত্তর হল ওয়ার ক্রাই, নারা-এ – তকবীরের প্রত্যুত্তর হল জয় শ্রীরাম

১৪০০ বছর ধরে আমাকে বলা হচ্ছে তুমি কাফের, তুমি মুশরিক, তুমি মূর্তিপূজক। অত‌এব তুমি ঘৃণ্য, তুমি হীন, যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি আমার পথ অনুসরণ করছো, ততক্ষণ তোমাকে ধ্বংস করাই আমার কর্তব্য। শুধু বলা হয়েছে এমন নয়। ৭১২ সালে রাজা দাহিরের পতন থেকে শুরু করে আজ, এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমার স্বজাতির উপরে আমার এই স্বভূমির উপরে এই ভাবধারার বাস্তবায়ন ঘটে চলেছে। অথচ ধর্মনিরপেক্ষতার নামে, সংখ্যালঘুদের অধিকারের নামে, ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশনের নামে এই অসহিষ্ণুতাকে কেবলমাত্র প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে তা নয়, বরং প্রচ্ছন্ন সমর্থন দেওয়া হয়েছে। আজ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাথে সাথে আমার বিরুদ্ধে অসহিষ্ণুতার অভিযোগ এনে চতুর্দিকে হুক্কাহুয়া শুরু হয়ে গিয়েছে? এই ভন্ডামি চলবে না।

গোটা পৃথিবী জুড়ে অসংখ্য বোমা বিস্ফোরণ, অসংখ্য কোতল, অসংখ্য দাঙ্গার সাথে জড়িত “নারা-এ – তকবীর//আল্লা হু আকবর” স্লোগানটিকে কোনদিন আপনাদের ওয়ার ক্রাই বলে মনে হয় নি। আজ আত্মরক্ষার তাগিদে যখন হিন্দু যুবসমাজ “জয় শ্রীরাম” বলে রুখে দাঁড়িয়েছে, ওমনি চারদিকে গেল গেল রব! বলি, এতদিন ধরে ভারতে দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ওরা যে এই মাটির উপরে একটা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, দেশটা ভাগ হ‌ওয়ার পরেও আপনারা তা বেমালুম অস্বীকার করে যাবেন? কীসের বুদ্ধিজীবী আপনারা? আপনারা স্বীকার করুন বা না করুন, এটাই সত্য যে We are in a state of war । আর যুদ্ধের প্রত্যুত্তর হল যুদ্ধ। ওয়ার ক্রাইয়ের প্রত্যুত্তর হল ওয়ার ক্রাই। নারা-এ – তকবীরের প্রত্যুত্তর হল জয় শ্রীরাম।

আপনারা মনে করেন সায়নী ঘোষের মত প্রকাশের অধিকার আছে কিন্তু সেই মতের বিরুদ্ধাচরণ করার অধিকার কার‌ও নেই। কেউ প্রতিবাদ করলেই আপনারা খাপ পঞ্চায়েত বসাতে শুরু করে দেবেন সর্বত্র? জেনে রাখুন, আপনাদের এই একপেশে ‘সহিষ্ণুতা’ থিওরির দাম আজকে পুরোনো হাজার টাকার নোটের সমান।এক সিপিএম নেতাকে দেখলাম বেদ উপনিষদের ভিত্তিতে হিন্দুদের সহিষ্ণুতা শেখাচ্ছে! শালা সারা জীবন লড়াই লড়াই লড়াই চাই বলে আজকে সহিষ্ণুতা? সারা জীবন মালিকের সাথে শ্রমিকের সংঘাতের ভিত্তিতে রাজনীতির রুটি সেঁকে আজকে সহিষ্ণুতা? মরিচঝাঁপি থেকে সাঁইবাড়ি পর্যন্ত অসংখ্য নৃশংস হত্যাকাণ্ডের হোতা হয়ে আজকে সহিষ্ণুতা? পাড়ায় কেউ সিপিএম ছাড়া অন্য পার্টি করলে তাকে ভাতে এবং হাতে মারার ইতিহাস সৃষ্টি করে আজকে সহিষ্ণুতা?হিন্দু যুবসমাজের প্রতি আমার আবেদন, এই ভন্ডদের কথার মারপ্যাঁচে পড়ে অ্যাপোলজেটিক হবেন না। ইঁটের জবাব পাথর দিয়ে দেওয়ার সংকল্প দৃঢ় করুন। যুদ্ধক্ষেত্রে সহিষ্ণুতা মানে আত্মহত্যা।

হিন্দু যদি বীরের মত মরিতে প্রস্তুত না থাকে, অলক্ষ্যে ছুরি খাইয়া মরিতে হইবে

“….ভারতবর্ষে #মুসলমান প্রভাব আরম্ভ হইবার সময় হইতে আজ পর্যন্ত #হিন্দু উৎপীড়িত হইয়াছে, উৎপীড়ণ করে নাই। মুসলমানধর্ম রাজধর্ম বলিয়া, উৎপীড়ক ধর্ম বলিয়া ভারতবর্ষে হিন্দুর সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস হইয়া মুসলমান-ধর্মালম্বীর সংখ্যা বৃদ্ধি হইয়াছে। হিন্দুর এই সংখ্যা হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ, হিন্দুর সামাজিক অত্যাচার ও অবিবেচনা। সম্প্রতি সেগুলি দূর করিবার চেষ্টা হইতেছে, এইটাই ভারতবর্ষের পরম শুভ লক্ষণ। শুদ্ধি ও সংগঠন আন্দোলন এই সামাজিক দুর্নীতি দূর করিবার প্রচেষ্টা মাত্র। অবশ্য, এ কথা বলিলে মিথ্যা বলা হইবে যে, #শুদ্ধি_আন্দোলন নিছক সামাজিক দুর্নীতি উচ্ছেদের প্রচেষ্টা; ইহার অন্য একটি দিকও আছে; ইহা শুধু আত্মরক্ষা করিবার উপায় নহে, আক্রান্ত ব্যক্তির উদ্ধারসাধনও এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য। মুসলমানের সহিত বিরোধ ব্যাধিতেছে এই শুদ্ধি আন্দোলনের এই দিকটি লইয়া। …..গত এপ্রিল মাস হইতে পর পর যে কটি #দাঙ্গা বাংলার উপর হইয়া গেল তাহাতে হিন্দু এই বুঝিয়াছে যে, ক্ষমা ও প্রেম নিরীহের মহত্ব নহে, দুর্বলতা মাত্র, হিন্দু যদি সবল হইত, ঠেঙ্গানির উত্তর যদি সে ঠেঙ্গানি দিয়া দিতে পারিত তাহা হইলে প্রীতি-মৈত্রীর কথা অপ্রাসঙ্গিক হইত না বটে, কিন্তু এখন যখন মার্ খাইয়া ফ্যালফ্যাল করিয়া চাহিয়া থাকা ছাড়া গত্যন্তর নাই তখন প্রীতির বার্তা প্রচন্ড উপহাস ছাড়া কিছুই নয়। …ভারতের হিন্দুর অবমাননা ও লোকক্ষয়-রোগের একমাত্র প্রতিকার শুদ্ধি-আন্দোলন ও সংগঠন। হিন্দু দলবদ্ধ হউক। প্রাণ দিয়া ধর্ম রক্ষা করুক। যদি বীরের মত মরিতে প্রস্তুত না থাকে, অলক্ষ্যে ছুরি খাইয়া মরিতে হইবে। যদি মৃতপ্রায় এই হিন্দুজাতিকে বাঁচাইয়া তুলিবার চেষ্টা তুমি আমি প্রত্যেকেই না করি, তাহা হইলে সকলের মুসলমান হইয়া মুসলমান সাম্যবাদের আস্বাদ গ্রহণ করিয়া হাসান-হুসেন বলিয়া বুকে করাঘাত করত পরের মাথায় লোষ্ট্র নিক্ষেপ করাই চরম পথ বলিয়া মানিয়া লওয়া ভাল। “

– শুদ্ধি আন্দোলন – শ্রী সজনীকান্ত দাস (প্রকাশনা: হিন্দু – সঙ্ঘ , ১৯শে আশ্বিন, ১৩৩৩।) মূল গ্রন্থ – “আত্মস্মৃতি – শ্রী #সজনীকান্ত_দাস – প্রকাশক: শ্রী ইন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রকাশনা সংস্থা – সুবর্ণরেখা, প্রথম প্রকাশকাল/পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ – ৭ অগ্রহায়ণ, ১৩৬১। শ্রী সজনীকান্ত দাস – প্রখ্যাত সম্পাদক, শনিবারের চিঠি।

সিএএ-র বাস্তবায়ন চাই

বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের কারণে শুধু ওপার বাংলার হিন্দুরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন নি, এপারের মূলনিবাসী বাঙ্গালী হিন্দুরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই বঙ্গের জমি, প্রাকৃতিক সম্পদ, কর্মসংস্থান- সবকিছুতেই তাদের অংশীদারিত্ব কমেছে। দেশভাগের পাপের বোঝা আজও ব‌ইতে হচ্ছে শুধুমাত্র বাঙ্গালী হিন্দু জাতিকে।ওপার থেকে বিতাড়িত হয়ে যারা এসেছিলেন অথবা আজও আসছেন, তাদের মনে ওপারে ফেলে আসা ‘মাঠ ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ’- এর স্মৃতি তাজা থাকলেও ওসব ফেলে এপারে আসার কারণটা মুখ ফুটে বলতে বড় একটা শোনা যায় না। সেটা অফিসিয়ালি প্রকাশ করার একটা বড় সুযোগ এসেছিল ‘#সিএএ’ পাশ হ‌ওয়ায়। কারণ নাগরিকত্ব পেতে হলে সেল্ফ ডিক্লারেশন দিয়ে ভারতে আসার কারণ জানাতে হত।কয়েক কোটি বাঙ্গালী হিন্দুর অফিসিয়াল স্টেটমেন্টকে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার সুযোগ এসেছিল #সিএএ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে। এর ভিত্তিতে আমরা এই বিপুল সংখ্যক উদ্বাস্তুদের জন্য সমানুপাতিক জমি বাংলাদেশের কাছে দাবি করতে পারতাম।বাংলাদেশ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া এই জমিতে সমস্ত উদ্বাস্তুদের এবং বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দুদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের স্থায়ী সমাধান এবং উদ্বাস্তুদের চাপে এপার বাংলার বাঙ্গালী হিন্দুদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হচ্ছে তার ইতি টানার একটা সম্ভাবনা লুকিয়ে ছিল এই #সিএএ-র বাস্তবায়নের মধ্যে।কিন্তু দেশের বর্তমান সরকার পিছিয়ে গেল। #সিএএ এখন অনির্দিষ্ট কালের জন্য ঠান্ডাঘরে। কোভিড পরিস্থিতিতে সংসদ অধিবেশন চলতে পারে, একগাদা বিল পাশ হতে পারে, নির্বাচন হতে পারে, রোড শো হতে পারে, বড় বড় নির্বাচনী সভা হতে পারে, কিন্তু #সিএএ-র রুল তৈরি হতে পারে না। এটা বাঙ্গালী হিন্দুদের প্রতি সাম্প্রতিক কালের সেরা ভাঁওতা।আমার ধারণা কেন্দ্রীয় সরকারের #সিএএ প্রশ্নে পিছু হটার জন্য শুধুমাত্র আগামী নির্বাচনের অঙ্ক‌ই দায়ী নয়, বরং বর্তমান সরকারের বাংলাদেশ নীতিই হয়তো এর মূল কারণ। বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক হিন্দু নির্যাতনের ঘটনায় টু-শব্দটি না করে ঘটা করে বঙ্গবন্ধুর ডাকটিকিট প্রকাশ করার প্রহসন এই সম্ভাবনাতেই সীলমোহর দিচ্ছে।আমরা #সিএএ চাই, ২০২১ এর নির্বাচনের আগেই চাই। কোনও আপোষ মীমাংসার প্রশ্ন নেই। এই প্রসঙ্গে বিভিন্ন উদ্বাস্তু সংগঠনের নেতৃত্বসহ বাঙ্গালী হিন্দু সমাজকে একটা স্ট্যান্ড নিতে হবে।

এই যুগ সভ্যতার সংঘাতের যুগ, Clash of Civilization এর যুগ

এই যুগ সভ্যতার সংঘাতের যুগ, Clash of Civilization এর যুগ। টিকে থাকতে হলে সংঘর্ষ করতে হবে। বৌদ্ধিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক- সবক্ষেত্রেই এই সংঘর্ষ হবে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রও বাদ যাবে না। যারা শক্তিশালী হবে, রাজনৈতিক দলগুলো‌ও সেদিকে ঝুঁকবে। দেশব্যাপী হিন্দুত্বের জাগরণ হচ্ছে। এই কথা মাথায় রেখে বাঙ্গালী হিন্দুকেও নিজের সভ্যতা, সংস্কৃতি, সর্বোপরি নিজের জাতিসত্ত্বার গোড়ায় জল দিতে হবে। ভারতমায়ের অখণ্ডতা রক্ষা এবং সাথে সাথে এই বঙ্গভূমিতে বাঙ্গালী হিন্দুর প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙ্গালী হিন্দু জাতিসত্ত্বাকে শক্তিশালী করা আবশ্যক। এই কাজের জন্য বাঙ্গালী হিন্দুর নিজস্ব সামাজিক স্তরে সংগঠন, অর্থনৈতিক স্তরে সংগঠন, বৌদ্ধিক (ইন্টেলেকচুয়াল) স্তরে সংগঠন এবং রাজনৈতিক সংগঠন চাই। হিন্দু সংহতি এই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে।এক্ষেত্রে একটা কথা উল্লেখ করা বিশেষ প্রয়োজন। সেটা হল, বাঙ্গালী হিন্দু জাতিসত্ত্বা কোনও দিন ভারতবিরোধী ছিল না, হবেও না। বাঙ্গালী হিন্দু জাতিসত্ত্বা কোনও দিন হিন্দুবিরোধী ছিল না, হবেও না। সেই অর্থে বাঙ্গালী হিন্দু শব্দের প্রয়োগটা সঠিক নয়, কারণ বাঙ্গালী হতে হলে হিন্দু হ‌ওয়া আবশ্যক। যে হিন্দু নয়, সে বাঙ্গালী হতে পারে না। তাই শুধু ‘বাঙ্গালী’ শব্দ ব্যবহার করাই উচিত। কিন্তু এতে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে বলেই ‘বাঙ্গালী হিন্দু’ শব্দের অবতারণা।আমরা যেমন ইসলামী আগ্রাসনের কাছে নতজানু হয়ে নিজেদের আইডেন্টিটি হারাতে চাই না, সেইভাবেই বৃহত্তর হিন্দু সমাজের মধ্যে বাঙ্গালী হিন্দু যাতে তার স্বতন্ত্র জাতিগত চরিত্র, সম্মান এবং অধিকার বজায় রেখেই সম্মিলিত হতে পারে, সে বিষয়েও আগ্রহী।আমাদের এই উদ্যোগ জাতির পুনর্গঠনের উদ্যোগ। এক্ষেত্রে সাময়িক লাভক্ষতি মোটেই বিচার্য নয়। যাঁরা এই উদ্যোগে সম্মিলিত হতে ইচ্ছুক, তাঁরা স্বাগত।

সিরাজ-শ্রীরাম সহাবস্থান’ নাকি ‘আপোষহীন হিন্দুত্ব’

সিরাজ-শ্রীরাম সহাবস্থান’ নাকি ‘আপোষহীন হিন্দুত্ব’, ‘তৃণমূলছুটদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া নাকি দরজা বন্ধ করে দেওয়া’, ‘এখনই সিএএ লাগু হোক নাকি বিলম্বিত থাকুক’, সায়নী ঘোষ ঠিক নাকি বেঠিক’, এইরকম বহু বিষয়ে বঙ্গ বিজেপির নেতারা এক এক জন এক এক সুরে কথা বলছেন। এগুলো একটা দলের Ideological bankruptcy-র লক্ষণ। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি, পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের পার্টির এই অবস্থা হবে এটা অকল্পনীয়।পাশাপাশি তৃণমূল দলটার কোনও দিন কোনও Ideology ছিল না, আজও নেই। তাদের একমাত্র লক্ষ্য ক্ষমতায় টিকে থাকা, ক্ষমতা ভোগ করা। বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে আমাদের মুক্তি দেওয়ার পুরষ্কার স্বরূপ জনগণের আশীর্বাদকে সম্বল করে দশ বছর রাজ্য শাসন করার সুযোগ পেয়েছিল এই দলটি। কিন্তু সারদা-নারদা-সিন্ডিকেট-কাটমানির রেকর্ড করা ছাড়াও সীমাহীন মুসলিম তোষণ করে এই দলটি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছে।ফোর্ড কোম্পানির গাড়ি তখন বিখ্যাত। একজন গাড়ি কিনতে এসে টেস্ট ড্রাইভ করছেন। পাঁচ কিলোমিটার যাওয়ার পর গাড়ি বন্ধ হয়ে গেল। কিছুতেই স্টার্ট হচ্ছে না। ফোর্ড কোম্পানির গাড়ির ক্ষেত্রে এটা হতেই পারে না। ইঞ্জিনিয়ার এলো। গাড়ির বনেট খুলে দেখা গেল গাড়িতে ইঞ্জিন নেই। আশ্চর্য! তাহলে গাড়ি পাঁচ কিলোমিটার চলল কী করে! ভীড়ের পিছন থেকে একজন বললেন ফোর্ডের যা গুড‌উইল, তাতে পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত ইঞ্জিন ছাড়াই চলা যায়!পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এবং বিজেপি – দুটো দল‌ই গুড‌উইল ভাঙিয়ে চলছে। বাম শাসনের হাত থেকে পরিত্রাণ দেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এবং হিন্দু হৃদয় সম্রাট নরেন্দ্র মোদীর ব্র্যান্ডের গুড‌উইল। রাজনৈতিক দলের ইঞ্জিন হল Ideology । বঙ্গে এই দুটো দলেরই ইঞ্জিন নেই। ক্ষমতার দৌড়ে বিনা ইঞ্জিনের তৃণমূল এখানেই থামবে, নাকি তাকে পিছনে ফেলে বিনা ইঞ্জিনের বিজেপি তার যাত্রা শুরু করবে ২০২১শের নির্বাচন তার‌ই পরীক্ষা।

হিন্দু হতে হলে বাঙ্গালী পরিচয় ছাড়তে হবে?

পশ্চিমবঙ্গ আমার রাজ্য, ভারত আমার দেশ। আমি একজন বাঙ্গালী, আমি একজন হিন্দু। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি ধূলিকণার মধ্যে দিয়ে আমি ভারতকে চিনেছি, বাঙ্গালীর সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের মধ্য দিয়ে আমি হিন্দুত্বকে অনুভব করেছি। আমি পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অখণ্ডতা ও উন্নয়ন সুনিশ্চিত করতে চাই, বাঙ্গালী জাতির সমৃদ্ধির মাধ্যমে ভারতকে সমৃদ্ধ করতে চাই। বাঙ্গালী জাতি ছিল, আছে আর থাকবে এবং ভারতীয় হয়ে, হিন্দু হয়েই থাকবে। ভারতের স্বাধীনতার জন্য বাঙ্গালী হিন্দুর আত্মবলিদান চিরস্মরণীয়। ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র, ঋষি অরবিন্দ, স্বামী বিবেকানন্দকে ভারতীয় এবং হিন্দু হ‌ওয়ার জন্য নিজেদের আইডেনটিটি বিসর্জন দিতে হয় নি।

ভারতের তথা হিন্দু সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অন্তর্নিহিত ঐক্যের মধ্যে বৈচিত্র্যকে মান্যতা দেওয়া। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের মূল সূরটা ঠিক তারে বাঁধা থাকলেই হবে। হিন্দু ঐক্যের জন্য এই বৈচিত্র্যকে ধ্বংস করতে হবে- এই চিন্তা হিন্দুত্বের মূল ভাবধারার পরিপন্থী। তাই আমরা মনে করি না যে হিন্দু হতে হলে বাঙ্গালী পরিচয়কে অস্বীকার করতে হবে।

আরব সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের হাত থেকে আমাদের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে রক্ষা করতে হবে, বাঙ্গালী পরিচয়কে হাইজ্যাক হ‌ওয়া থেকে বাঁচাতে হবে। বাঙ্গালী পরিচয় হাইজ্যাক হয়ে গেলে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে হিন্দুত্ব থাকবে না, যেটা আজ বাংলাদেশে হচ্ছে। অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে বাঙ্গালীকেই অগ্রণী ভুমিকা নিতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গে বসবাসরত অবাঙ্গালী হিন্দুদের এবং পশ্চিমবঙ্গের বাইরে অবশিষ্ট ভারতের সকল হিন্দুদের আমরা আমাদের বৃহত্তর পরিবারের সদস্য মনে করি। এই লড়াইয়ে আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করি। অবাঙালী হিন্দু মূলের যে বন্ধুরা বঙ্গভূমিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, এই সমাজকে নিজের সমাজ বলে মিলেমিশে গেছেন, এই সংস্কৃতিকে আত্মসাৎ করেছেন, বাংলাভাষা এবং এই ভাষায় রচিত সাহিত্যকে নিজের মনে করে গৌরববোধ করেন, সর্বোপরি নিজেদের বাঙ্গালী বলে পরিচয় দিতে কুন্ঠিত হন না- তাঁরাও ১০০% বাঙ্গালী।

ভারতের অখণ্ডতা রক্ষা করতে হলে পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে হবে। আর পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে হলে বাঙ্গালী হিন্দুদের শক্তিশালী হতে হবে। আমি উপলব্ধি করি যে বাঙ্গালী জাতিসত্ত্বার অস্তিত্ব আছে, যাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। আমরা বাঙ্গালী ন‌ই, আমরা হিন্দু- এই ন্যারেটিভ মিথ্যা, তাই এই ন্যারেটিভ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হবে। আমরা বাঙ্গালী সত্ত্বাকে অস্বীকার করলেও এই জাতিসত্ত্বা থাকবে এবং আমাদের এই সত্যকে অস্বীকার করার অপরাধে বাঙ্গালী জাতি কালক্রমে হিন্দু সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তাই ভারতের অখণ্ডতার স্বার্থে, বৃহত্তর হিন্দু সমাজের সমৃদ্ধির স্বার্থে আমি বাঙ্গালী আইডেনটিটি স্বীকার করার, বাঙ্গালী হিসেবে গৌরব অনুভব করার এবং এই জাতিসত্ত্বাকে শক্তিশালী করার পক্ষে।

শুভ বিজয়া

আজ শুভ বিজয়া। শুভেচ্ছা আদান প্রদান হচ্ছে, কোলাকুলি হচ্ছে, মিষ্টিমুখ হচ্ছে। কিন্তু এই বিজয়া কিসের সেলিব্রেশন? এই বিজয়া হল অশুভ শক্তির উপরে শুভ শক্তির বিজয়ের সেলিব্রেশন।

এই বিজয় কিভাবে এসেছিল? এই বিজয় এসেছিল অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির ভয়ানক বিধ্বংসী যুদ্ধের মাধ্যমে। এটা চিরন্তন সত্য যে এডুকেট করে, সংস্কার দিয়ে দুষ্কৃতীদের মনে শুভবুদ্ধির উদয় ঘটানো কোনও দিন সম্ভব হয় না।

কথায় আছে, ‘চোরায় না শোনে ধর্মের কাহিনী’! ধর্মের কাহিনী যখন একজন চোরকেই শোনানো যায় না, তখন মহিষাসুরদের মত মহা শক্তিধর দুর্বৃত্তদের কি তা শোনানো সম্ভব? তাই অশুভ শক্তির সাথে আপোষ নয়, যুদ্ধ করাই ধর্ম। দুষ্কৃতীদের সংস্কার নয়, সংহার করাই ধর্ম। দুর্গাপূজা শুধু আনন্দ উৎসব নয়, দুর্গাপূজা এই ধর্মশিক্ষা হৃদয়ে এবং আচরণে গ্রহণ করার অনুষ্ঠান।

হুজুগে বাঙ্গালী বিজয়ার সেলিব্রেশনে যতটা উৎসাহী তার সিকিভাগ‌ও যদি এই ধর্মশিক্ষা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে দেখায়, তাহলে তার এই দুর্গতি হয় না।